আর্চি থেকে গুগল - সার্চ ইঞ্জিনের উত্থান ও ক্রমবিকাশ

প্রথম সার্চ ইঞ্জিন আর্চি এখনকার সার্চ ইঞ্জিনের মতো কীওয়ার্ড ধরে খুঁজতে পারতো না, বরং নির্দিষ্ট টাইটেল লিখে সার্চ না করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যেত না
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

গুগল সার্চ ইঞ্জিন যেন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। আর এই গুগল সার্চ ইঞ্জিন কে আমরা সংক্ষেপে বলি গুগল। কোন শব্দের মানে বুঝতে পারছি না? গুগল আছে তো। কোন কিছু সম্পর্কে জানতে হবে? গুগল আছে তো। কোন কিছু খুজে পেতে হবে? গুগল আছে তো। গুগল ছাড়া যেন আমাদের চলেই না। কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, সবার প্রয়োজন মেটাতেউ আছে গুগল।  শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী, সবার জীবন সহজ করে তুলতে গুগলের ব্যবহার চলছে অবিরত।  কিন্তু কিভাবে এলো এই সার্চ ইঞ্জিনের আইডিয়া? কিভাবে শুরু হলো গুগলের যাত্রা?

সার্চ ইঞ্জিনের উত্থান ও ক্রমবিকাশ

সার্চ ইঞ্জিনের উত্থান ও ক্রমবিকাশ

দুই দশক আগে ইন্টারনেট জগৎ ছিল শুধু লিংকের সমাহার, সংগ্রহ। সেই সময়ে যখন কারও কোনো তথ্যের প্রয়োজন হতো তখন তাকে একের পর এক লিংক এ ক্লিক করে যেতে হতো, ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজনীয় তথ্যটি খুঁজে পায়। সেই সময়ে লিংকে প্রবেশ না করে বাইরে থেকে কোনোভাবে বোঝার বা জানার উপায় ছিল না ভেতরের ফাইলটি কোন বিষয়ের উপর।

সার্চ ইঞ্জিনের ধারণা

১৯৪৫ সালে ভেনেভার বুশ নামক একজন ইঞ্জিনিয়ার  একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন, যার নাম ছিল “As we may think”। এবং সেই আর্টিকেলে তিনি বিশেষজ্ঞদেরকে একটি ভার্চুয়াল তথ্য ভান্ডার খুলতে বলার চেষ্টা করেন। কারণ সেই সময় তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, বিশ্বে তথ্যের পরিমাণ যে হারে বাড়ছে, তাতে  তা সহজে খুঁজে পেত্র কোনো না কোনো উপায় বের করতেই হবে। নয়তো হারিয়ে যাবে বহু তথ্য বা প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া হবে খড়ের গাদায় সুচ খোজার মত।

সার্চ ইঞ্জিনের ধারণা

এই চিন্তা ভাবনা থেকেই আসে সার্চ ইঞ্জিন এর পরিকল্পনা। আর এই সার্চ ইঞ্জিনের জনক বলা হয় জেরার্ড সাল্টনকে। তিনি তখন তৈরি করেছিলেন SMART বা Salton’s Magic Automatic Retriever of Text যা তখন অনেকের মধ্যেই সার্চ ইঞ্জিনের ধারনা গেঁথে দেয়। তার লেখা বই 'A Theory of Indexing' এ উল্লেখ করা কিছু পদ্ধতি, কিছু অ্যালগরিদম এর উপর অনেকটা ভিত্তি করেই বর্তমানের আধুনিক সার্চ ইঞ্জিনগুলো কাজ করছে। 

প্রথম সার্চ ইঞ্জিন আর্চি

এভাবেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের ভাবনা ও পরিকল্পনা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯৯০ সালে ইন্টারনেট জগতে আসে প্রথম সার্চ ইঞ্জিন আর্চি (Archie), যা তৈরি করেছিলেন অ্যালান এমটেজ। এছাড়াও অ্যালান আর্চিতে ইনডেক্সিং ব্যবস্থার প্রচলন ঘটান, যা এখনও বর্তমানের আধুনিক সার্চ ইঞ্জিনেও তথ্য যোগ করার উপায় হিসেবেই চলে আসছে। 

প্রথম সার্চ ইঞ্জিন আর্চি

তবে, প্রথম সার্চ ইঞ্জিন আর্চি এখনকার কোন সার্চ ইঞ্জিনের মতো কীওয়ার্ড ধরে খুঁজতে পারতো না, বরং নির্দিষ্ট টাইটেল লিখে  যদি সার্চ না করা হতো, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফলটি পাওয়া যেত না। আর সেই সময়ে বছর দুয়েকের মধ্যেই প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার ফাইল জমা হয় আর্চিতে।

সার্চ ইঞ্জিন ভেরোনিকা ও জাগহেড

আর্চির পাশাপাশি কাছাকাছি সময়ে তৈরি হয় আরও দুইটি সার্চ ইঞ্জিন যাদের নাম 'ভেরোনিকা' এবং 'জাগহেড'। ১৯৯৩ সালে তৈরি হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ওয়ানডেরার, যা ছিল ইতিহাসের প্রথম স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি (বট), যেটি নিজে থেকেই লিংক সংগ্রহ করে ডেটাবেজে জমা করে রাখতে পারতো। কিন্তু কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আগেই হারিয়ে যায়, তবে তাদের দেখানো সেই বট বা রোবট সিস্টেম ব্যবহারের আইডিয়াটি থেকেই যায়, যা আজকের সার্চ ইঞ্জিনগুলো ব্যবহার করে থাকে। পপরবর্তীতে এই সমস্যার সমাধান নিয়ে আসে ALIWEB, তবে সেটিও জনপ্রিয় হয়ে  উঠতে পারেনি। এরই ধারাবাহিকতায় জাম্পস্টেশন, WWW Worm, RBSE নামক বেশ কয়েকটি নাম যুক্ত হয় সার্চ ইঞ্জিন জগতে, কিন্তু হারিয়েও যায় খুব দ্রুত।

সার্চ ইঞ্জিন এক্সসাইট ও ইয়াহু

বিবর্তনের এই ধারাবাহিকতায় স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ৬ শিক্ষার্থীর হাত ধরে তৈরি হয় একটি নতুন সার্চ ইঞ্জিন, নাম 'Excite'। যেটি সেই সার্চ ইঞ্জিনে সংগ্রহ করে রাখা কন্টেন্টগুলোতে ব্যবহার করা শব্দগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে কন্টেন্টগুলোকে একটি র্যাংকিং সিস্টেমে এনে ফেলে। পরবর্তীতে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়েরই দুই শিক্ষার্থী জেরি ইয়াং এবং ডেভিড ফিলো তৈরি করেন সারা জাগানো সার্চ ইঞ্জিন Yahoo, তবে সেটি শুরুতে কেবল খেলাধুলার তথ্য সংগ্রহ করতো। ধীরে ধীরে তারা ইয়াহুকে তৈরি করেন এক আদর্শ সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে। তবে শুরুতে ইয়াহুর নাম দিয়েছিলেন তারা 'Jerry and David’s Guide to the World Wide Web'। আর ভালোভাবে সার্ভিস প্রদানের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল প্রচুর অর্থের। আর সেই অর্থ সংগ্রহ করা নিয়েই তাদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।

বর্তমানে গুগল, ইয়াহু, বিং, বাইজু প্রচুর অর্থ উপার্জন করলেও দুই দশক আগেও একে মানুষ অনেকটা জনসেবা বলে মনে করতো, এর বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা ন্যায্য কি অন্যায্য, তা নিয়ে ছিল তখনকার অন্যতম বিতর্কের বিষয়। তবে সেই শত বিতর্কের মধ্যেও বিজ্ঞাপনের বিনিময়ে ফান্ড সংগ্রহ করে ইয়াহু। ইয়াহুর জনপ্রিয়তার সময়েই Excite আবার তাদের পুরনো সমস্যার সমাধান করে নতুন রূপে হাজির হয় মানুষের সামনে এবং চলতে থাকে ইয়াহুর সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আর এর মাঝেই ১৯৯৬ সালে আসে BackRub, যা পরবর্তীতে হয়ে উঠেছে আজকের গুগল। আর গুগলের উত্থানের সাথের পতন ঘটে ইয়াহুর

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের উত্থান

১৯৯৬ সালে স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র ল্যারি পেইজ এবং সের্গেই ব্রিন তৈরি করেন এটি, যাকে ১৯৯৮ সালে গুগল নামকরণ করা হয়। আর সময়ের সাথে গুগল টপকে যায় ইয়াহু আর এক্সাইটকে।

বর্তমানে সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং সবচেয়ে কার্যকর সার্চ ইঞ্জিন হলো গুগল। গুগল সার্চ ইঞ্জিন তার ইন্ডেক্স করা প্রত্যেকটি কন্টেন্টকে প্রায় ২০০-রও বেশি ফ্যাক্টর দিয়ে যাচাই করে সার্চ র্যাংকিং দেয়, সেখানে আবার প্রত্যেকটি লিংকে ইউজারের করা প্রত্যেকটি ক্লিককে গুগল হিসেব করে একেকটি ভোট হিসেবে, যা পরবর্তী সার্চে আবার র্যাংকে প্রভাব ফেলে। গুগল তার অ্যালগরিদম পরিবর্তন করে বছরে প্রায় পাঁচ শতাধিক বার। গুগলের কল্যানেই আজ আমরা এত সহজে যেকোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি। আর গুগলের পূর্বের সার্চ ইঞ্জিনগুলো এসেছিল বলেই আজ আমরা পেয়েছি গুগলকে।

বিং, ডাক ডাক গো ও অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন

গুগলের পরে ইন্টারনেট জগতে এসেছে আরও অনেক সার্চ ইঞ্জিন। মাইক্রোসফট ২০০৯ সালে বিং নিয়ে হাজির হয়। তবে মজার বিষয় হলো, বিং এর সাথে মাইক্রোসফটের পাশাপাশি যুক্ত ইয়াহুও। গুগল  ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে। এটিকে যারা সমস্যা মনে করতো তাদের জন্য বিং এরও আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে চালু হয় ডাক ডাক গো। 

অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন

চীনের বাইজু, রাশিয়ার ইয়ানডেস্ক ও ইয়াহু, গুগলদের কাছাকাছি সময়ে এসেছে। ইয়ানডেস্ক আসে ১৯৯৭ সালে আর বাইজু আসে ২০০০ সালে। তবে এরা বিশ্বব্যাপী সেবা দেয় না এবং দিতে আগ্রহীও না।

বাংলাদেশের সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা

গুগল, বিং, ডাক ডাক গো, বাইজু,  ইয়াহু সার্চ ইয়ান্ডেক্স বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুলো। আপনি কি জানেন বাংলাদেশেরও নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন আছে, যার নাম ' পিপীলিকা'। এটি ১৩ এপ্রিল, ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.