নেট নিউট্রালিটি - যেভাবে আমাদের ইন্টারনেট ব্রাউজিং নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে

আইএসপিরা চাইলে তার গ্রাহকের ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তারা ইন্টারনেট জগতটি যেমন আপনার উন্মুক্ত করতে পারে, তেমনি নিয়ন্ত্রণ করতেও পারে
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

ব্রডব্যান্ড সংযোগ নিবেন? খোঁজ নিলে দেখতে পাবেন প্রায় সব ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) বা ইন্টারনেট কোম্পানি যা ই বলুন ফেসবুক, ইউটিউব এইসব সাইটে আ-কামাই স্পিড বা উচ্চ গতির বাফার ফ্রি ইন্টারনেট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ইউটিউব আর ফেসবুক হচ্ছে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা ওয়েবসাইট। প্রশ্ন হচ্ছে তারা এই দুইটি ওয়েবসাইটেই কিভাবে এত উচ্চ গতির ইন্টারনেট দিচ্ছে? 

আবার কোন কোন ওয়েবসাইট দেখবেন আপনি ঢুকতে পারছেন বা ব্রাউজ করতে গেলেও অত্যন্ত ধীর গতিতে পেজ লোড হচ্ছে,  এটাই বা কিভাবে হয়? এখানে আপনার আএসপি ঐসব ওয়েবসাইটের গতি ধীর করে রেখেছে।

সরকার কিভাবে পাব্জি, ফ্রি ফায়ার সাইট গুলো বন্ধ রাখলো? বা এডাল্ট সাইটসহ অনেক সাইট গুলো ব্লক করে রেখেছে?  সব প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে নেট নিউট্রালিটির কাছে।

নেট নিউট্রালিটি কি?

এই যে বিশাল ইন্টারনেট জগৎ, যাকে আমরা অদৃশ্য এবং কাঠামোহীন অন্তর্জাল বলে মনে করে থাকি, আসলেই কি তাই? ইন্টারনেট জগতে কি কোন কাঠামো নেই? আসলে এই বিশাল ইন্টারনেট জগতের যে দিকটি আমরা আসলে দেখতে পাই না তা হলো এর অবকাঠামোগত দিক। যেমন - সার্ভার, স্যাটেলাইট, সেল টাওয়ার, ফাইবার অপটিকসহ যাবতীয় যন্ত্রাংশ যা ইন্টারনেটে মাধ্যমের একটি মৌলিক অংশ যা প্রতিনিয়ত এক সাইট থেকে আরেক সাইটে এই কন্টেন্টগুলো আদান-প্রদান করছে। আর, ইন্টারনেটের এই দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ করে যারা আমাদের আইএসপি বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার  তারা, যেমন- ব্রডব্যান্ড কিংবা সিম অপারেটর। 

নেট নিউট্রালিটি কি

কিন্তু সমস্যাটা প্রকৃতপক্ষে এখানে। আইএসপিরা চাইলেই তার গ্রাহকের ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তারা চাইলেই যেমন ইন্টারনেট জগতটি আপনার সামনে উন্মুক্ত করতে পারে, যেমন- সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা অনলাইন গেমিংসহ আরও অনেক কর্মকাণ্ড। তেমনি করতে পারে নিয়ন্ত্রণ ও।

যেভাবে আইএসপি আমাদের ইন্টারনেট জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে

কিভাবে আইএসপি আমাদের ইন্টারনেট জগত নিয়ন্ত্রণ?  তারা কাজটি করে সার্ভারের মাধ্যমে। এক সার্ভার থেকে অন্য সার্ভারে গতি কিরকম হবে তা তারা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। যেহেতু আমরা যখন কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি, সেই ওয়েবসাইট যে সার্ভারে জমাকৃত রয়েছে, সেখান থেকে ডাটা আমাদের আইএসপির সার্ভার হয়ে আমাদের কাছে আসে, সেই কারনে সেই ওয়েবসাইটের সার্ভার থেকে আমাদের কাছে ডাটা কত গতিতে আসবে তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আইএসপির রয়েছে। অর্থাৎ তারা চাইলেই তাদের সার্ভারের মাধ্যমে কিছু সাইট স্লো কিংবা ব্লক করে দিতে পারে এবং কিছু সাইটের গতি বাড়িয়েও দিতে পারে। 

যেভাবে আইএসপি আমাদের ইন্টারনেট জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে

 যখন কোন সাইটের গতি বাড়ানো হয় তখন তাকে ‘ফাস্ট লেন’ হিসেবে যুক্ত করা হয় । আর এই ফাস্ট লেন-এ যুক্ত সাইটগুলোতে সবসময় হাই স্পিড পাওয়া যায়। যেমন - আমাদের আইএসপিগুলো ফেসবুক, ইউটিউব কে ফাস্ট লেনে যুক্ত রাখে। আর যেসব সাইট স্লো রাখতে চায় তাদের স্লো লেনে যুক্ত রাখা হয়।

ইন্টারনেট ব্রাউজিং নিয়ন্ত্রণের ক্ষতি

এখন আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতেই পারে, এই নিয়ন্ত্রণ এ ক্ষতি কোথায়? আমি তো আমার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে উচ্চ গতির ইন্টারনেট পাচ্ছি। এই যে ইন্টারনেট কিনতে গেলে এত এত প্যাকেজ, ৫ এম্বিপিএস, ১০ এম্বিপিএস এসব কিভাবে তৈরি করা হয়? এসব প্যাকেজ তৈরি করা হয় এই সার্ভার নিয়ন্ত্রণ এর মাধ্যমে। আপনার কাছে সার্ভার থেকে কত স্পিডে ডাটা যাবে তা ক্যাপ বা লিমিট করে দেয় আপনার আইএস্পি। ফলে একটি সাইট থেকে যদি সাধারণভাবে আপনার কাছে ১০ এম্বিপিএস স্পিডে ডাটা ট্রান্সফার ও সম্ভব হয়, আপনার আইএসপির ডাটা লিমিট ক্যাপের কারনে আপনার কাছে আপনার ক্রয়কৃত ৫ এম্বিপিএস প্যাকেজের স্পিডেই ডাটা ট্রান্সফার হয়। আবার আপনি যে প্যাকেজ ই কিনুন না কেন, আপনার আইএসপির নিজস্ব এফটিপি সাইটে আপনি সর্বোচ্চ গতি ই পাচ্ছে। এটা তারা করে ফাস্ট লেনে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট সংযুক্ত করার মাধ্যমে। একই ভাবে মোবাইল ওপারেটর গুলো তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মোবাইল অপারেটরদের ওয়েবসাইট স্লো লেনে সংযুক্ত করে রাখে এবং নিজেদের এবং নিজেদের সাথে সম্পর্কিত সকল ওয়েবসাইটকে ফাস্ট লেনে সংযুক্ত করে রাখে। আবার ধরা যাক 'x' মোবাইল অপারেটর বা আইএসপির সাথে 'y' অনলাইন শপ এর সাথে সম্পর্ক রয়েছে,  তাহলে ঐ মোবাইল অপারেটর বা আইএসপি যদি 'y' অনলাইন শপটিকে ফাস্ট লেনে রেখে, প্রতিদ্বন্দ্বী সকল অনলাইন শপকে স্লো লেনে যংযুক্ত করে দেয়, তাহলে ব্রাউজ করাত সময় 'y' অনলাইন শপটিতে উচ্চ গতি ও প্রতিদ্বন্দ্বী অনলাইন শপগুলোতে ধীর গতি দেখে আপনার স্বভাবতই 'y' অনলাইন শপটিকে ভাল মনে হবে কেননা তাদের উচ্চ গতি তাদের সম্পর্কে আপনার কাছে একটি ভাল ধারনা দিবে। এভাবেই সৃষ্টি  হয় অনলাইন জগতে বৈষম্য। 

আর এখানেই জন্ম নেট নিউট্রালিটি বা নিরপেক্ষতার  তত্বটির। আমি অনলাইনে যা করব তা আমার একান্তই ব্যক্তিগত ইচ্ছা। এখানে গতি কমিয়ে দেয়া বা ফাস্ট লেন যুক্ত করে ভিন্ন প্যাকেজ তৈরি করে আমার ব্যবহারের প্রাধান্যকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আইএসপি রাখে না। তারা বিভিন্ন গতিসম্পন্ন প্যাকেজ তৈরি করতে পারবে, কিন্তু সেই প্যাকেজের প্রদত্ত স্পিড দিয়ে আমি যা করব, যে ওয়েবসাইটই ব্রাউজ করব সেটা আমার ব্যাপার, এখানে ও তারা গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

নেট নিউট্রালিটি এবং ইন্টারনেট জগতকে উন্মুক্ত একটি  ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য দীর্ঘকাল ধরে সাধারণ মানুষেরা লড়ে আসছে। এখন যদি ইন্টারনেট সার্ভিস  প্রোভাইডাররা তাদের পছন্দ অনুযায়ী অনলাইন কোম্পানি ও প্রযুক্তি বাছাই করে তাহলে অনেক নতুন কোম্পানি হয়তো কখনও তাদের পরিধি বৃদ্ধি করার সুযোগ পাবে না। আমাদের দেশের  নেট নিঊট্রালিটির এই প্রেক্ষাপটের চিত্র ভিন্ন হতে পারে, তবে বহির্বিশ্বে এর প্রভাব গুরুতর এবং এ নিয়ে আন্দলোন ও হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.