ফ্রিল্যান্সিং গাইড - ডিজিটাল মার্কেটিং এর আদ্যোপান্ত

ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে ইন্টারনেট দুনিয়ায় পণ্য, প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের প্রচারনা বা বিজ্ঞাপন দেয়া
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

ধীরে ধীরে সবকিছু অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। জামা-কাপড়, ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিস চাল, ডাল, মাছ, মাংস সব কিছুই বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। সারাবিশ্ব যেখানে অনলাইন জ্বরে ভুগছে, সেখানে বাংলাদেশ ও পিছিয়ে নেই। দারাজ, আজকের ডিল, চালডাল, ফুডপান্ডা, বেংগল মিট এসব অনলাইন শপের কল্যানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছুই এখন এক ক্লিকে আপনার দরজার সামনে এসে হাজির হবে। ব্যস্ত জীবনে স্বস্তি হয়ে দেখা দিচ্ছে ডিজিটাল শপগুলো। আর সব কিছু যতই ডিজিটাল হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং এও আসছে তত বেশি সুযোগ। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

সহজ করে বললে ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে ইন্টারনেট দুনিয়ায় পণ্য, প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের প্রচারনা বা বিজ্ঞাপন দেয়া। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে, কারণ বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৭৫ শতাংশ মানুষই নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। 

এখন, কোম্পানি বা ব্র‍্যান্ড তাদের পণ্যের ডিজিটাল মার্কেটিং করলে সেখানে আপনার কি লাভ? সেখানে আপনি কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করবেন? এর উত্তর কম্পিটিশন। প্রতিদিন নতুন নতুন কোম্পানি আসছে। বড় বড় কোম্পানি গুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছে, ছোট কোম্পানিগুলো বড় কোম্পানিগুলোকে ছুঁতে চাচ্ছে। আর এই প্রতিযোগিতার বাজারে যতভাবে আপনার পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বিক্রি বাড়ানো যায় তত আপনার লাভ। উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, ধরা যাক আপনি একটি ডাবের দোকান খুলে বসলেন। ঠিক পাশেই অন্য একজন ডাবের দোকান খুললো। ফলাফল প্রতিযোগিতা। এখন এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে আপনি কি করলেন, একজন কে বললেন আপনি আমাকে ডাবের কাস্টমার এনে দিন, আপনার এনে দেয়া কাস্টমারদের থেকে আমি যতটাকা লাভ করব, তার একটা অংশ আমি আপনাকে দিব। ফলে এখন আপনি নিজে যেসব কাস্টমার পাচ্ছিলেন তা তো পাচ্ছেনই, আবার যেসব কাস্টমার আপনার পাওয়ার কথা ছিল না, ঐ ব্যক্তি আপনার হয়ে মার্কেটিং করে আপনাকে আরও কাস্টমার এনে দিচ্ছে ফলে আপনার কম খরচে ও বিনা কষ্টে কাস্টমার ও লাভ দুটোই বাড়ছে। আর এভাবেই বড় বড় কোম্পানি গুলো অফার দিয়ে থাকে যে আপনি তাদের পণ্য বিক্রি করে দিতে পারলে আপনাকে তাদেত একটা লভ্যাংশ দেবে। যেমন - এমাজন এর মত এত বড় আর পপুলার কোম্পানিও এফিলিয়েট এর মাধ্যমে ফ্রিলান্সারদের ইনকাম এর সুযোগ করে দেয় আর নিজেদের বিক্রি বাড়ায়।

বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং এর বেশ কয়েকটি ধরণ রয়েছে। এই পোস্টে এই ধরনগুলো হালকা করে বর্ণনা করা হবে। পরবর্তীতে প্রত্যেকটি ধরন নিয়ে আলাদা আলাদা বিস্তারিত পোস্ট করা হবে, যেগুলো থেকে আপনি কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেন তা বুঝতে পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

আগেই বলেছি পৃথিবীর মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৭৫% ই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। আর তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেক বড় মাধ্যম হলো সোশাল মিডিয়া। আপনি যখন কোন পণ্য সোশাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করবেন তখন তা হবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। ফেসবুক স্ক্রল করলেই আসে নানা ধরনের বিজ্ঞাপন। আবার বিভিন্ন গ্রুপ না পেজে আমরা বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন, রিভিউ এসব দেখতে পাই। এগুলো সবই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। ছোট কোম্পানি গুলোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারন এটি কম খরচে সবচেয়ে সহজে ব্র‍্যান্ড নেম বিল্ড করতে সাহায্য করে।

এসইও (SEO)

এসইও এর পূর্ণরূপ হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। আমরা যখন কোন সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগলে কোন টপিক নিয়ে সার্চ করি তখন গুগল সেই সার্চ সম্পর্কিত সব রেজাল্ট দেখায়, সেখানে বিজ্ঞাপন ও থাকে। বিজ্ঞাপনটি সার্চকারীর  জন্য প্রাসঙ্গিক হলে তিনি সেই সাইটে প্রবেশ করেন। অর্থাৎ আপনার বিজ্ঞাপনটি সার্চ এর জন্য প্রাসঙ্গিক করে তোলাই এসইও। বর্তমানে সবচেয়ে ডিমান্ডিং স্কিল হচ্ছে এসইও। বড় বড় কোম্পানিগুলো অনেক বেতনে এসইও এক্সপার্টদের হায়ার করে থাকে।

সিপিএ মার্কেটিং 

সিপিএ এর পূর্ণরুপ হলো কস্ট পার একশন। অর্থাৎ গ্রাহককে দিয়ে কোন একটি কাজ করিয়ে নেয়াই হলো সিপিএ মার্কেটিং। যেমন কোন ওয়েবসাইটে কাউকে সাইন আপ করিয়ে নেয়া, কাউকে কোন এপ ডাউনলোড করানো বা কোন পেজে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। বর্তমানে সিপিএ মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয়।  এমনকি ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করানোর জন্যও অনেকে সিপিএ মার্কেটারদের সাহায্য নেয়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

এফিলিয়েট মার্কেটিং সরাসরি ক্রয় বিক্রয় এর সাথে জড়িত। কাউকে দিয়ে আপনার কোন পণ্য বিক্রি করিয়ে নেয়াই এফিলিয়েট। এমাজন হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান। তারা ১০% পর্যন্ত কমিশন দেয় একেকটি পণ্য বিক্রির জন্য। এফিলিয়েট মার্কেটিং দিন দিন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের দারাজ ও এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা দেয়।

ইমেইল মার্কেটিং 

ইমেইল মার্কেটিং মানেই স্প্যাম ইমেইল এমন নয়। অনেক কোম্পানি তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন পার্সোনালি পোঁছে দিতে ইমেইল মার্কেটারদের সাহায্য নেয়। ইমেইল মার্কেটাররা পণ্যর সুযোগ সুবিধা সম্পর্কিত আকর্ষণীয় ইমেইল ঐ পণ্যের সম্ভাব্য গ্রাহকদের ইমেইল জোগাড় করে প্রেরণ করে৷ এভাবে গ্রাহক পণ্যটি সম্পর্কিত একটা পরিচিতি পায় এবং আগ্রহ বোধ করলে তা কেনে।

এসএমএস মার্কেটিং 

হারহেমাশাই দেখবেন আপনার ফোনে বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কিত মেসেজ আসে। অমুক প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে তমুক স্কলারশিপ এরকম। এগুলো এসএমএস মার্কেটিং।  বাল্ক এসএমএস কিনে কোম্পানি গুলো এভাবে নিজেদের মার্কেটিং করে।

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং 

সোশাল মিডিয়া সেলিব্রেটিদেরকে বলা হয় ইনফ্লুয়েন্সার। আপনি যদি সোশাল মিডিয়ায় পপুলার হন তখন আপনাকে বিভিন্ন কোম্পানি হায়ার করবে আপনার ভিডিও বা পোস্টে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন করে দিতে। এটাই ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং। 

এছাড়াও রয়েছে কন্টেন্ট মার্কেটিং যা আসলে এসইও এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে যুক্ত। 

কেন করবেন ডিজিটাল মার্কেটিং?

স্ট্যাটাস্টিকা'র তথ্যানুযায়ী এপ্রিল ২০২৩ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোট জনসংখ্যার ৬৪.৪% অর্থাৎ প্রায় ৫ বিলিয়নের ও বেশি মানুষ ইন্টারনেট যুক্ত রয়েছে। আর এ কারনেই ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের প্রচারণা ও বিক্রির জন্য ঝুকছে অনলাইন মাধ্যমে। ট্রাডিশনাল বা প্রথাগত বিজ্ঞাপন ও মার্কেটিং প্রক্রিয়ায় যেখানে অনেক টাকা খরচ করে অনেক সময় ধরে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে হতো, ডিজিটাল মিডিয়ায়, তার অনেক গুন কম টাকা খরচ করে মুহূর্তের মধ্যে গ্রাহকের কাছে নিজের পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, যে কোন লোকেশন, বয়স ও অন্যান্য ক্রাইটেরিয়াতেই বিজ্ঞাপন পৌঁছাতে পারছে। ধরা যাক তরুন তরুণীদের জন্য একটি কোল্ড ড্রিংক্স এর বিজ্ঞাপন পেপার বা টিভিতে প্রচার করলে তা সব শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে যাবে যার মধ্যে বিজ্ঞাপন দাতার টার্গেট অডিয়েন্স খুবই নগন্য, সেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে শুধুমাত্র ঐ বয়সের তরুন তরুণীদের কাছে ঐ পণ্যের বিজ্ঞাপন খুব সহজেই খুব কম খরছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে সময়। আপনি ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এ যত সময় ব্যয় করবেন তা না করে ডিজিটাল মার্কেটিং এ মুহুর্তের মধ্যে বড় সংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন। আর টার্গেট অডিয়েন্স নির্ধারণ করতে পারা এর অন্যতম বড় সুবিধা।  আপনি যে শ্রেনীর গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে চান ঠিক তার কাছেই আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছাতে পারবেন। যেমন গ্রামীণ ফোন এর স্কিটো সিম। এই সিমের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছু শুধুমাত্র তরুন তরুণীদের কে টার্গেট করা হয়। আর এসব কারনেই বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিলিয়ন ডলারের মার্কেট। আর তাই ফ্রিল্যান্সারদেরও পছন্দ ডিজিটাল মার্কেটিং। 


এ পর্বে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং এর পরিচিতি পেলাম। পরবর্তীতে প্রত্যেকটি ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে কিভাবে কাজ করবেন, কি সুযোগ সুবিধা,  কিভাবে আয় করবেন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিস্তারিত জানানো হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.