কম্পিউটার ভাইরাস কি? কেন তৈরি করা হয়? বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস

২০০০ সালের মে মাসে লাভ-বাগ নামের একটি ওয়ার্ম ভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আই লাভ ইউ নামের একটি চিঠি সংযুক্ত থাকতো যা ওপেন করলেই ভাইরাস আক্রমণ হত
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রেখেছিলেন কম্পিউটারে, প্রয়োজনের সময় ফাইল ওপেন করতে গিয়ে দেখেন ফাইল করাপ্ট হয়ে গেছে কিংবা হার্ড ড্রাইভের কোন ফাইলে প্রবেশ করতে গেলেই দেখছেন ফাইল লকড, ফাইল ওপেন করতে পাসওয়ার্ড পেতে আপনাকে দিতে বলছে বড় এমাউন্টের টাকা। কি হয়েছে আপনার ফাইল গুলোর?  ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হয়েছেন  আপনি। ট্রোজেন ভাইরাসে ফাইল করাপ্ট হয়েছে কিংবা র্যান্সামওয়্যার ভাইরাস আপনার ফাইল আটক করে রেখেছে। এ কেমন ভাইরাস? চলুন জেনে আসি কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কে। 

কম্পিউটার ভাইরাস কি?

কম্পিউটার ভাইরাস বা ভাইরাস (VIRUS) শব্দটির পূর্ণরূপ হলো– Vital Information Resources Under Seize। আর এই পূর্ণরূপ পড়েই বুঝতে পারছেন ভাইরাস শব্দটির পরিচয়। ভাইরাস এমন এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা আপনার কম্পিউটারকে আক্রমণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিনিয়ে নিয়ে যেতে পারে এমন কিছুকে বলা হবে ভাইরাস। আরও যদি বিস্তারিতভাবে বলা হয় তাহলে যা কম্পিউটারের মধ্যে প্রবেশ করে কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও তথ্য মুছে ফেলতে পারে, ফাইল নষ্ট করতে পারে, ডিভাইসটিকে স্লো করে দিতে পারে, তথ্য চুরি করতে পারে,  ডিভাইসের উপর থেকে ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে পারে এবং মানবদেহের ভাইরাসের মতোই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সহজে সংক্রমণ করতে পারে; এমন ধরনের প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারগুলোই কম্পিউটার ভাইরাস।

কম্পিউটার ভাইরাস কি?

কেন কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করা হয়?

ভাইরাস প্রোগ্রামাররা মূলত গবেষণা করা, মজা করা বা বিভিন্ন অসৎ উদ্দেশ্য যেমন সংবেদনশীল তথ্য চুরি, তথ্য নষ্ট করা, তথ্য মুছে ফেলা, কম্পিউটারকে রিমোট এক্সেস প্রদান করে হ্যাকারদের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়া বা কম্পিউটারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিয়ে ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করা ইত্যাদি কাজে এসব প্রোগ্রাম তৈরি ও ব্যবহার করে থাকেন।

কেন কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করা হয়?

কিভাবে কম্পিউটার ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়?

১৯৪৯ সালে হাঙ্গেরিতে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী জনভন নিউম্যান সর্বপ্রথম কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কে ধারণা দেন। একটি প্রোগ্রামের হুবহু নকল প্রোগ্রাম হিসেবে তার এই ধারণার আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে এটি কম্পিউটার ভাইরাস নামে পরিচিতি পায়।

শুরুর দিকে শুধু মাত্র বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে ভাইরাস তৈরি করা হতো এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলত। কিন্তু গবেষণাগারের বাইরে তৈরি হওয়া প্রথম যে ভাইরাসটি বিভিন্ন কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে সেই প্রোগ্রামের  নির্মাতা ছিলেন এলক ক্লোনার। এবং  এটির প্রোগ্রামিং এর কাজটি করেন তখনকার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল শিক্ষার্থী রিচার্ড স্কেন্টা।  ভাইরাসগুলো ফ্লপি ডিস্কের মাধ্যমে কম্পিউটারে ছড়াত। এর ফলে এই ভাইরাসগুলো কম্পিউটারের নিরাপত্তায় খুব বেশি প্রভাব ফেলতে সক্ষম হত না।

১৯৯০ দশকের শুরুতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে  ভাইরাস ছড়াতে শুরু করলেও  কম্পিউটার ভাইরাসের সবচেয়ে বড় আক্রমণটি হয় ১৯৯৯ সালে। আমেরিকান নাগরিক ডেভিড এল স্মিথ মেলিসা ভাইরাস নামের এ ভাইরাস প্রোগ্রামটি তৈরি করেন যা ই-মেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই  সংক্রমণ প্রক্রিয়ায় ই-মেইলের সাথে একটি ওয়ার্ড ফাইল যুক্ত করে দেওয়া হয়, যা ওপেন করলেই ব্যবহারকারীর কম্পিউটার ভাইরাস আক্রমণের শিকার হতো। শুধু তাই নয়, আক্রমণের শিকার ব্যক্তির কাছ থেকে তার ই-মেইলের সাথে যুক্ত থাকা আরও ৫০ জনের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই মেলিসা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ত। ফলে মেলিসা ভাইরাসের আক্রমণে অসংখ্য ই-মেইল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বাধ্য হন গ্রাহকরা।

মেলিসা ভাইরাসের পরপরই আসে ওয়ার্মের আক্রমণ। পূর্বের ভাইরাস থেকে ওয়ার্ম একটু আলাদা। ওয়ার্ম এক রকমের ভাইরাস হলেও, অন্যান্য ভাইরাসের সাথে এর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ওয়ার্ম নিজে থেকেই ভিকটিমের  কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে যেটা অন্য কোনও ভাইরাসের পক্ষে সম্ভব নয়। ২০০০ সালের মে মাসে লাভ-বাগ নামের একটি ওয়ার্ম ভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আই লাভ ইউ নামের একটি চিঠি সংযুক্ত থাকতো যা ওপেন করলেই কম্পিউটার ওয়ার্ম আক্রমণের শিকার হত।

২০০৭ সালে শুরু হয় ট্রোজান হর্স ভাইরাসের আক্রমণ। ভুয়া বা ফেইক কনটেন্ট দিয়ে গ্রাহককে ভুল পথে নিয়ে কম্পিউটারকে হ্যাক করাকে ট্রোজান হর্স বলা হয়। এটই মূলত একটি ম্যালওয়্যার। ক্ষতিকারক সব ধরনের সফটওয়্যারকে বলা হয়  ম্যালওয়্যার । যেমন -  ভাইরাস, ওয়ার্ম, স্পাইওয়্যার, ট্রোজান হর্স ইত্যাদি।

সর্বশেষ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ কম্পিউটার ভাইরাসহলো র্যানসমওয়্যার। সাইবার চাঁদাবাজির জন্য এই ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। র্যানসমওয়্যার যেকোনও কম্পিউটারে আক্রমণ করে এর সব ডাটা নিজের অধীনে নিয়ে নেয় এবং সেগুলো ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে কম্পিউটার মালিকের কাছে অর্থ দাবি করে। ব্যবহারকারী যদি তার কম্পিউটারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ডাটা ফেরত পেতে চাইলে অর্থ প্রদান করতে হয়, অন্যথায় তিনি সেগুলো আর ফেরত পাওয়া সম্ভব না।

বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস 

এই ভাইরাসের ধরন গুলোই সাধারণত দেখা যায়। তবে অনেক অজানা ভাইরাস আছে যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অজানা।

১. ওর্মস (Worms) – 

এই ভাইরাস গুলোকে সেল্ফ-রেফ্লিকেটিং বলা হয়। কারন এইন ভাইরাসগুলো ভিক্টিমের সিস্টেমে লুকিয়ে থেকে ফাইল গুলোতে ইনফেকশন ঘটাতে থাকে এবং আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পরে। আর এরা নিজেদের কোড এমন ভাবে বদলে নেয় যার ফলে খুঁজে বের করা অনেক কঠিন।

২. ট্রোজান (Trojans) – 

এই ধরণের ভাইরাস হ্যাকাররা ছড়ায়। এই ভাইরাস ব্যবহার করে হ্যাকররা ভিক্টিমের কপম্পিউটারে ইন্টারনেট, নেটওয়ার্ক দ্বারা প্রবেশ করে তাতে থাকা পার্সোনাল এবং গুপ্ত ফাইল ও তথ্য চুরি করে নিতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস

৩. ব্রাউজার হ্যাকার (Browser Hacker) – 

এই ধরণের ভাইরাস ভিক্টিমের কম্পিউটারে “ডাউনলোড” এর মাধ্যমে ঢুকে। তারপর সেই ভাইরাস ভিক্টিমের ইন্টারনেট ব্রাউজারে অনেক রকমের ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন দেখায়, popup বিজ্ঞাপন দেখায়, ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য ওয়েবসাইট খুলে যায়।

৪.ওভাররাইট ভাইরাস (Overwrite Viruses) – 

এই ভাইরাস গুলি ভিক্টিমের কম্পিউটারে ঢুকে, সিস্টেম ফাইল বা যেকোনো ফাইল ডিলিট করে দিতে পারে। এছাড়াও ফাইল ডিলিট করে নিজের মতো সেই ফাইল গুলো এডিট করে কম্পিউটারের ক্ষতি করে।

৫. ম্যালওয়্যার (Malware) – 

এই ধরণের ভাইরাস বানানো হয় ভিক্টিমের কম্পিউটারকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য । এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ফাইল কপি করার সময় এবং পেন্ড্রাইভ, মেমরি কার্ড, সিডি ইত্যাদি ব্যবহার করার সময় এই ভাইরাসগুলো সিস্টেমে ছড়ায়।

৬. স্পাইওয়্যার (Spyware) – 

এই ভাইরাস ব্যবহার করে ভিক্টিমের কম্পিউটার এবং ব্রাউসার ব্যবহারের ওপরে নজর রাখা হয়। ইন্টারনেট থেকে যে কোন উপায়ে এই ভাইরাস সিস্টেমে ঢুকতে পারে।

৭. এডওয়্যার ভাইরাস (Adware virus) - 

ইন্টারনেট থেকে কিছু ডাউনলোড করার সময় ঢুকে এই ভাইরাস ভিক্টিমের কম্পিউটারে নিজে নিজে বিজ্ঞাপনের ওপর বিজ্ঞাপন দেখাতে থাকে যেগুলি আপনি কোনো মতেই বন্ধ করতে পারবেন না।

পরবর্তী পর্বে আমরা কিভাবে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করে এবং ভাইরাস মোকাবেলা ও আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণ হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন তা জানব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.