ইউএসএ সার্ভে জব - ফ্রিল্যান্সিং নাকি প্রতারণা?

বলা হয় ইউএসএ সার্ভে জব করে প্রতিদিন অল্প পরিশ্রম করেই আয় করতে পারবেন মাসে ৫০০-১০০০ ডলার পর্যন্ত৷ যা বাংলাদেশী টাকায় ১ লাখ। নিঃসন্দেহে লোভনীয়, তাই না?
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

ফেসবুক ইউটিউব এ ব্রাউজ করতে গেলেই হঠাৎ হঠাৎ চলে আসে চোখের সামনে লোভনীয় থাম্বনেইলসহ ভিডিও যেখানে বলা হয় ইউএসএ সার্ভে জব করে প্রতিদিন ৩/৪ ঘন্টা পরিশ্রম করেই আয় করতে পারবেন মাসে ৫০০-১০০০ ডলার পর্যন্ত৷ যা বাংলাদেশী টাকায় ৫০০০০-১০০০০০ টাকা। নিঃসন্দেহে লোভনীয়, তাই না? কিন্তু সন্দেহজনকও বটে, কেননা এভাবে যদি মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা কামানোই যায় তাহলে মানুষ আর চাকরি বাকরির পেছনে কেনো ছুটবে? কিন্তু তারপরেও প্রচুর মানুষ এই সার্ভে জবের পেছনে ছুটে। চলুন জেনে আসি এই সার্ভে জবের ব্যাপারে।

ইউএসএ সার্ভে জব - ফ্রিল্যান্সিং নাকি প্রতারণা?

আমেরিকা বা ইউরোপ ভিত্তিক কোম্পানিগুলো তাদের যে কোন ধরনের প্রোডাক্ট বাজারে আনার আগে আগে মার্কেট রিসার্চ করে, সার্ভে করে। পণ্যে মানুষ কি পেতে চায়, কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা বেশি, এমনকি পণ্যের প্যাকেজিং কি কালারের হলে ভোক্তার কাছে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয় সব ধরনের সার্ভে ও রিসার্চ করেই তারা বাজারে তাদের পণ্যটি নিয়ে আসে। বেবি কেয়ার থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য,  এমনকি ওষুধ পর্যন্ত সকল পণ্যের উপরই এই ধরনের রিসার্চ হয়।
এই সার্ভে বা রিসার্চ এর তথ্য নেয়া হয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। আর সাধারণত মানুষ তাদের সময় নষ্ট করে এ ধরনের রিসার্চের জন্য প্রশ্নের উত্তর  দিতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। আর তাই মানুষকে আগ্রহী করতে এসব সার্ভে সম্পূর্ণ করলে তারা কিছু টাকা দেয়। এই টাকার পরিমান ০.২৫ ডলার থেকে ৫,১০ ডলারও হয়। প্রশ্নের সংখ্যার উপর ও ঐ পণ্যের ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর উপর এই টাকার পরিমান নির্ভর করে। প্রশ্ন বেশি আর পণ্যের ভোক্তা কম হলে সেই সার্ভে টাকা বেশি দিবে।

ইউএসএ সার্ভে জব - ফ্রিল্যান্সিং নাকি প্রতারণা?

কোম্পানিগুলো এই সার্ভে করার জন্য কিছু সার্ভে কোম্পানি হায়ার করে যারা তাদের হয়ে এই সার্ভে গুলো মানুষকে দিয়ে করায়। এই সার্ভে অনলাইন ও অফলাইনে হয়। কিছু অনলাইন ওয়েবসাইটেও এই সার্ভেগুলো হয়। আর তাদেরকে কেন্দ্র করেই এই সার্ভে জবের লোভনীয় অফার। এই সার্ভেগুলো নির্দিষ্ট দেশ ও নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য। এর বাইরে অন্য কেউ এই সার্ভেগুলোতে অংশ নিতে পারবে না। তাহলে কিভাবে বাংলাদেশ থেকে এসব সার্ভে জবের লোভনীয় অফার দিচ্ছে?

যারা এ ধরনের জব অফার দেয় তাদের মূল ব্যবসা আসলে আইপি, প্রক্সি ও আরডিপির। যেহেতু আপনি আমেরিকার অধিবাসী নন, সেহেতু বাংলাদেশ থেকে আপনার জন্য কোন সার্ভেই থাকবে না। কিন্তু আপনি যখন আমেরিকান আইপি, প্রক্সি বা আরডিপি ব্যবহার করবেন, তখন আপনার জন্য এই সার্ভে গুলো এভেইলেবল হয়ে যাবে। তখন আপনি এসব সার্ভেতে অংশ নিতে পারবেন। এই একেকটি প্রক্সি, আইপি তারা বিক্রি করে ১০০০-৩০০০ টাকা দামে। প্রক্সির মানের উপর নির্ভর করে সার্ভের এভেইলেবেলেটি। আর যে কোন সময় আপনার এই আইপি বা প্রক্সি ধরা খেয়ে যেতে পারে। তারা তাদের সার্ভের সঠিকতা ঠিক রাখার জন্য অনেক সিকিউরিটি ইউজ করে যার ফলে আপনি যত ভাল প্রক্সি বা আইপি ই ব্যবহার করেন ধরা পরে যাবেন। আর আইডি ব্যান হলে আপনার একাউন্টের সব ডলার বাতিল হবে। পেন্ডিং পেমেন্ট ও বাতিল হবে। ফলে এত কষ্টের সবই লস।
এবার আসুন এই বিষয়ে আপনাদের কয়েকটি প্রশ্ন ও তার উত্তর দেই

** এসব সার্ভে থেকে কি আসলেই ডলার কামানো যায়?
উত্তর - হ্যা যাবে। ডলার আপনি আয় করতে পারবেন। কিন্তু আপনাকে যত বলা হয়েছিল তত নয়। সর্বোচ্চ ৬০-৮০ ডলারের মত মাসে কামানো যাবে। তাও সেটি আপনার কপাল অনেক ভালো হলে। একাউন্ট ব্যান না হলে। সাধারণভাবে ৩০-৬০ ডলার আয় করতেও আপনাকে সারাদিন সময় দিতে হবে৷ খাটতে হবে।

** এসব সার্ভে কি লিগ্যাল?
উত্তর - না। এগুলো শুধু নির্দিষ্ট দেশ এলাকার জন্য।  আপনি প্রক্সি,  আইপি দিয়ে ইলিগ্যালি ব্যবহার করছে।

** একাউন্ট ব্যান কেন হয়?
উত্তর - আপনি ইলিগ্যালি এই সার্ভে অংশগ্রহণ করছেন। আপনার আইপি সাময়িকভাবে তাদের সিকিউরিটি এরিয়ে যেতে পারলেও একসময় না একসময় তা ধরা খেয়ে যাবেই।

** আসলেই কি এক দুই ঘন্টা কাজ করলেই হয়?
উত্তর - না। আপনাকে এর পেছনে প্রচুর সময় দিতে হবে। আর এসব সার্ভে এভেইলেবল হয় আমেরিকান অফিস টাইমে যা আমাদের সময়ে রাত। রাত জেগে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করেও আপনার আয় সর্বোচ্চ ৩০-৬০ ডলার।

** তাহলে লাভ কিরকম হবে?
উত্তর - আপনি যদি ৬০ ডলার ও আয় করেন,  তাহলে আপনার ভাল মানের আইপি ব্যবহার করতে হয়েছে যার দাম ২০০০/৩০০০ টাকা। তাহলে সারা রাত ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করে আপনি শুধু ৬০০০-২০০০ টাকা আয় করলেন ৪০০০ টাকা। যা আপনার পরিশ্রম অনুযায়ী কিছুই না।

** কেন সার্ভে জব স্ক্যাম?
উত্তর - আমরা এখানে ৩০-৬০ ডলার আপনার আয় ধরেছি। এখান থেকে আপনি ০ ডলারও আয় করতে পারেন। অর্থাৎ পুরো আইপির টাকাই আপনার লস।
যারা এসব প্রলোভন দেখায় তাদের ব্যবসা মূলত আইপির। আপনি আয় করতে পারেন না পারেন তারা তাদের লাভ করে ফেলেছে।

আপনি নিজেই একবার চিন্তা করুন, মাসে যদি ৫০০-১০০০ ডলার আসলেই আয় করা যেতো তাহলে এই সার্ভে জব যারা প্রমোট করে তারা তাদের মূল্যবান সময় বাদ দিয়ে আপনার কাছে ২০০০/৩০০০ হাজার টাকার আইপি বিক্রির জন্য কেন এত ধানাই-পানাই করছে?

আপনারা এখনই সতর্ক হয়ে যান। এসব ডলার ইনকামের খপ্পরে না পরে যে ২/৩ হাজার টাকা দিয়ে আইপি কিনতেন সেই টাকা দিয়ে কোন ভালো ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করুন। তাহলে সৎভাবেই আয় করতে পারবে। এভাবে হয়তো প্রথম ৬ মাস ১ বছর অনেক ইনকাম করতে পারবেন না। কিন্তু লেগে থাকলে ও পরিশ্রম করলে প্রচুর আয় করতে পারবে। তার প্রমাণ হলো আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ১০ লাখের ও বেশি, যা কাগজে কলমে। প্রকৃতপক্ষে আরও বেশি। আর সরকার বর্তমানে ফ্রিল্যান্সারদের প্রণোদনাও দিচ্ছে আগ্রহী করতে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.