কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে যা করবেন

ভাইরাস আক্রান্ত হলে দ্রুততার সাথে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ও ফায়ারওয়াল চালু করে সেটিকে আপগ্রেড করে নিয়ে তা দিয়ে কম্পিউটারে একটি প্রাথমিক চেকআপ করাতে হবে
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

আগের আর্টিকেলগুলোয় আমরা কম্পিউটার ভাইরাস কি এবং ভাইরাসের অনুপ্রবেশ থেকে কম্পিউটারকে কিভাবে মুক্ত রাখবেন সে সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু এরপর ও যদি আপনার কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হয়, তাহলে কি করবেন তাই জানব আজকের পর্বে।

কিভাবে বুঝব কম্পিউটারে ভাইরাস আছে?

-  কম্পিউটার ক্রমাগত ক্র্যাশ করলে

- নিজে নিজে সফটওয়্যার ওপেন ক্লোজ হলে

- ফাইল করাপ্ট হলে

- ফাইল এনক্রিপ্টেড হলে

- ব্রাউজারে নিজে নিজে নতুন ট্যাব ওপেন হলে

- পপ আপ বিজ্ঞাপন আসলে নিজে নিজে

- কম্পিউটার অনেক স্লো হয়ে গেলে

- সিস্টেম এরর আসলে বারবার

- বারবার কম্পিউটার ক্র্যাশ এন্ড ফ্রিজ হলে

- কম্পিউটার হ্যাং হয়ে গেলে ক্রমাগত 

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে যা করবেন

১. প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো আপনার উইন্ডোজটি আপগ্রেড করে নেয়া। উইন্ডোজ নিজস্ব কিছু সিকিউরিটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করে যা আপনার কম্পিউটারের বুট বা বাইওস ফাইল গুলো কে রক্ষা করে। এতে ভাইরাস আক্রমণ করলেও তা আপনার উইন্ডোজ নষ্ট করে আপনাকে বিপদের মুখে ফেলতে পারবে না। এতে আপনার কম্পিউটারটির উইন্ডোজ সুরক্ষিত থাকবে। চেষ্টা করবেন উইন্ডোজ ১০ অফিসিয়াল ফ্রি ভার্সন বা উইন্ডোজ ১১ ব্যবহার করতে। এসব উইন্ডোজ নিয়মিত আপগ্রেড আসে এবং প্রতি আপগ্রেডে নতুন নতুন সিকিউরিটি প্যাচ আসে যা আপনার কম্পিউটারের উইন্ডোজ কে সুরক্ষিত রাখবে।

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে যা করবেন

২. উইন্ডোজ এর নিজস্ব সিকিউরিটি সিস্টেম হচ্ছে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার এবং ফায়ারওয়াল। সাধারণত যে কোন ক্র্যাক ফাইল সফটওয়্যার বা অন্যান্য ক্র্যাক ফাইল কম্পিউটারে ইন্সটল করতেও ব্যবহার করতে গেলে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার বাধা দেয় যে কারনে আমরা উইন্ডোজ ডিফেন্ডারকে বন্ধ করে রাখি। এ কাজটি ভুলেও করা যাবে না। ভাইরাস আক্রান্ত হলে দ্রুততার সাথে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ও ফায়ারওয়াল কে চালু করতে হবে এবং এরপর সেটিকে আপগ্রেড করে নিয়ে তা দিয়ে কম্পিউটারে একটি প্রাথমিক চেকাপ করাতে হবে। মেলিসিয়াস ফাইল গুলো উইন্ডোজ ডিফেন্ডার নিজেই ডিলিট করে দেয়। এতে কিছু টা হলেও ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাবে এবং কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারবে না।

৩. এবার যে কাজটি করতে হবে তা হলো একটি ভালো মানের এন্টিভাইরাস কম্পিউটারে ইন্সটল করা। এভিরা, ক্যাস্পার্স্কি, পান্ডা ইত্যাদি খুব ভালো মানের নাম করা এন্টিভাইরাস এবং এগুলো এক মাসের ফ্রি ট্রায়াল দিয়ে থাকে যা দিয়ে আপনি আপনার কম্পিউটারের আক্রান্ত ভাইরাস কে নির্মুল করতে পারবেন। এন্টিভাইরাস দিয়ে আপনার পুরো কম্পিউটারটি একটি ফুল স্ক্যান করাবেন। এই স্ক্যান সময়ব্যাপী হলেও এর মাধ্যমে কম্পিউটারে কি ধরনের ভাইরাস আক্রমণ হয়েছে তা বুঝতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবেন। এছাড়াও এন্টিভাইরাস আপনার কম্পিউটারে লুকিয়ে থাকা ভাইরাস কে চিহ্নিত করে তা কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাবে বা ডিলিট করে দিবে।

৪. যদি আপনার এন্টিভাইরাস আপনার কম্পিউটারে ট্রোজেন হর্স ভাইরাসটি পায় তাহলে এন্টিভাইরাস দিয়ে এ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মুল সম্ভব নয়। কেননা, এগুলো ফাইলের ভেতরে লুকিয়ে বসে থাকে। এজন্য আপনাকে ট্রোজেন রিমুভার এন্টিভাইরাস ইন্সটল করতে হবে। এই এন্টিভাইরাসগুলো ও এক মাসের ফ্রি ট্রায়াল পাওয়া যায় যা দিয়ে সহজেই আপনি আপনার কম্পিউটারে লুকিয়ে থাকা ট্রোজেন হর্স ভাইরাস গুলো সহজেই খুজে বের করে নির্মুল করতে পারবেন।

৫. একইভাবে যদি ম্যালওয়্যার ভাইরাস দ্বারা কম্পিউটার আক্রান্ত হয় তাহলে ম্যালওয়্যার রিমুভার এন্টিভাইরাসগুলো ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার নির্মুল করতে পারবেন।

৬. কিভাবে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করেছে তা নিশ্চিত করুন। যদি কোন ইউএসবি পেন্ড্রাইভ, মেমরি কার্ডচ হার্ড ড্রাইভ, সিডি থেকে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করে থাকে তাহলে এন্টিভাইরাস দিয়ে সেই ডিভাইসটি কম্পিউটারে কানেক্ট করে তা স্ক্যান করিয়ে ভাইরাস মুক্ত করে নিন। এবং যে বা যার কম্পিউটার থেকে এই ড্রাইভের সাহায্যে ফাইল নিয়েছিলেন তার কাছ থেকে ফাইল নেয়া থেকে বিরত থাকুন এবং তাকেও ভাইরাস দমন করতে বলুন।

৭. এডওয়্যার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে দ্রুত যে ব্রাউজারে এড ওপেন হচ্ছে তা আনইন্সটল করুন এবং অপ্রয়োজনীয় ও অপরিচিত কোন সফটওয়্যার বা এক্সটেনশন কম্পিউটারে ইন্সটল থাকলে তা ডিলিট করে দিন। এরপর আপনার ইন্সটলকৃত সফটওয়্যার গুলো দ্রুত এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করিয়ে ভাইরাস মুক্ত করুন।

৮. যদি কোন ডাউনলোড ফাইলের মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করে থাকে তাহলে সেই ওয়েবসাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।

৯. ভাইরাসের আক্রমণ যদি চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যায় এবং প্রয়োজনীয় ফাইল বাঁচাতে না পারেন, তাহলে শেষ রক্ষা হিসাবে এবং পরবর্তীতে ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে আপনার কম্পিউটারে নতুন করে উইন্ডোজ ইন্সটল করুন এবং হার্ড ড্রাইভ ফর্মেট করে দিন। এরফলে কম্পিউটারে কোন ভাইরাস টিকতে পারবে না এবং ডিলিট হয়ে যাবে। নতুন উইন্ডোজ আপডেট করুন, উইন্ডোজ ডিফেন্ডার আপগ্রেড করুন এবং ভাল মানের এন্টিভাইরাস ইন্সটল করে নতুন ভাবে সতর্কতার সাথে কম্পিউটার ব্যবহার করুন।

কম্পিউটারের ফাইল ও তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সতর্কতা চাই ১০০%। ছোট ছোট সতর্কতা মূলক কাজ আপনাকে ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। নিরাপদ রাখুন আপনার তথ্য, নিরাপদ থাকুন আপনি ও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.